ডিবি পুলিশের হেফাজতে গ্রেপ্তার চোরচক্রের প্রধান। ছবি-সংগৃহীত।

মোটরসাইকেল চোরচক্রের প্রধান মো. জাকারিয়া হোসেন হৃদয়কে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারের সময় তার হেফাজত থেকে বিভিন্ন মডেলের ১২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়ে।

বুধবার (২৪ মে) হবিগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির গুলশান বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। খবর ঢাকা পোস্টের।

ডিবি সূত্র জানায়, গত ১০ মে ভাটারা থানায় একটি মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্ত মামলা হয়। সেই মামলার ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হয় জাকারিয়া। জাকারিয়া একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের প্রধান। তার চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছে। এই চক্রটি মাত্র ২৫-৩০ সেকেন্ডে শপিংমলের সামনে থেকে মোটারসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির কাজটি করতে তারা একটি মাস্টার চাবি ব্যবহার করে। এই চাবিটি ব্যবহার করে মাত্র ২৫-৩০ সেকেন্ডে মোটরসাইকেলের ঘাড় লক ভেঙে সেটি চালু করে নিয়ে পালিয়ে যায়। জাকারিয়া ছাড়া এই চক্রে আরও বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। বাকি পলাতক আসামিরা হলো- জাহাঙ্গীর, জিতু, ইকবাল, খালেক।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদ।

হারুন-আর রশীদ বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন সময় শপিংমলের সামনে থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা হয় না। তবে যমুনা শপিংমলের সামনে থেকে কালো রঙের বাজাজ মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার পর মালিক মামলা করেন। মামলাটি হওয়ার পর আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। ওই মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের জন্য আমরা হবিগঞ্জে বন্ধু মটরসের গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানের সময় গ্যারেজের মালিক মোহন পালিয়ে যান। তবে অভিযানে এই চোর চক্রের প্রধান জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় যতো মোটরসাইকেল চুরি হয় এর সঙ্গে এই চক্রটি জড়িত। সুমন এই চক্রের রেকি সদস্য। তিনে বিভিন্ন শপিংমলের সামনে গিয়ে মোটরসাইকেল রেকি করেন। মালিক মোটরসাইকেল রেখে শপিংমলের ভেতরে যাওয়ার পর অন্য সদস্যদের তিনি জানান। এই তথ্য পাওয়ার পর চক্রের সদস্য জিতু ও জাহাঙ্গীর তাদের কাছে থাকা মাস্টার চাবি দিয়ে মোটরসাইকেলটি চালু করে দ্রুত পালিয়ে যান।

পরে চক্রের সদস্য খালিক তিনি ওই মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধু মটরসের মালিকের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে বন্ধু মোটরসের মালিক ৫০-৬০ হাজার টাকা আবার বিক্রি করে দেন।

তিনি আরও বলেন, এই চক্রটির কাছ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছি। চক্রটির প্রধান জাকারিয়া জানান তারা ঢাকা শহরের সব শপিং মলের সামনে থেকে এভাবে মোটরসাইকেল চুরি করেন। তাদের একটা দোকান আছে, সেখান থেকে তারা মাস্টার চাবি সংগ্রহ করে এভাবে মোটরসাইকেল চুরি করেন। তারা হবিগঞ্জের বন্ধু মোটরসে তাদের এই চুরির মোটরসাইকেলগুলো বিক্রি করেন।

সবশেষে ডিবি প্রধান বলেন, আমরা ডিবির পক্ষ থেকে সবাইকে বলছি মোটরসাইকেল সবসময় পার্কিংয়ে পার্ক করবেন, ১০ টাকা লাগলেও। তার পরেও যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে থানায় জিডি নয়, মামলা করবেন। আর যদি কোনো কারণে থানা মামলা নিতে না চায় তাহলে ডিবি অফিসে অভিযোগ করতে পারেন।