সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। সুযোগ ছিল শেষটাও জয় করে খুশি দ্বিগুণ করা। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে তা পারল না স্বাগতিকেরা।
মিরপুরে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের ২৭ রানে হারিয়ে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। খবর বাসসের।
এ ম্যাচে অধিনায়ক টম লাথামের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান করে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।
আজ শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। একাদশে চারটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্র।
স্পিনার নাসুম আহমেদের করা দ্বিতীয় ওভার থেকে ১২ রান পায় নিউজিল্যান্ড। পেসার শরিফুল ইসলামের করা চতুর্থ ওভারে ১৯ রান তুলেন অ্যালেন-রবীন্দ্র। অ্যালেন ২টি চার ও ১টি ছক্কা এবং রবীন্দ্র ১টি চার মারেন।
৫ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর গিয়ে দাঁড়ায় বিনা উইকেট ৪৭। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম তিন বলে ১১ রান আসে। এতে ৫০ রানে কোটা স্পর্শ করে নিউজিল্যান্ড। তবে ওই ওভারে মারমুখী মেজাজে থাকা এই জুটি ভাঙেন শরিফুল। ৩টি চারে ১২ বলে ১৭ রান করেন রবীন্দ্র মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন ।
আর ওভারের শেষ বলে অ্যালেনের স্টাম্প উপড়ে ফেলেন শরিফুল। ২৪ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪১ রান করেন অ্যালেন।
দলীয় ৫৮ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর নিউজিল্যান্ডের মিডল-অর্ডারে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশের অকেশনাল স্পিনার আফিফ হোসেন ও নাসুম আহমেদ। ষষ্ঠ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ও ইনিংসের নবম ওভারের চতুর্থ বলে তিন নম্বরে নামা উইল ইয়ংকে ৬ রানে আউট করেন আফিফ। ১৫ ম্যাচ পর বল হাতে নিয়ে ক্যারিয়ারের সপ্তম উইকেটের স্বাদ পান আফিফ।
১১তম ওভারে ৮ রানে ৯ রান করা কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে শিকার করেন নাসুম।
৮৩ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর বড় জুটির চেষ্টা করেন অধিনায়ক টম লাথাম ও হেনরি নিকোলস। দুজন দলের স্কোর শতরান পার করেন। লাথাম-নিকোলসের কল্যাণে ১৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১১৬ রান করে কিউইরা।
ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে দলকে বড় স্কোর এনে দেওয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন লাথাম-নিকোলস। কিন্তু ১৭তম ওভারে নিকোলসকে তুলে নিয়ে দারুণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাসকিন। ২১ বলে ২০ রান করেন নিকোলস। জুটিতে ৩৫ বলে ৩৫ রান তোলেন তাঁরা।
নিকোলস যখন ফেরেন, তখন ইনিংসের ২১ বল বাকি ছিল। শেষ ২১ বলে ৪৩ রান তোলেন লাথাম ও কোল ম্যাককঞ্চি। তাসকিনের করা ১৯তম ওভারে ১৮ ও শরিফুলের করা শেষ ওভার থেকে ১০ রান তোলেন তাঁরা। এতে ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৬১ রানের বড় সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড।
বাংলাদেশের শরিফুল ২টি, তাসকিন-নাসুম-আফিফ ১টি করে উইকেট নেন।
সিরিজের সর্বোচ্চ ১৬২ রান তাড়া করতে নামেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও লিটন দাস। প্রথম ২ ওভারে ৯ রান করেন তাঁরা। ৪ ওভারে আসে ২৪ রান। পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে লিটনের বিদায় নিশ্চিত করেন নিউজিল্যান্ডের স্পিনার আজাজ প্যাটেল। পয়েন্টে এক হাতে ক্যাচ নেন কুলেগেইন। ১২ বলে ১০ রান করেন লিটন।
দলীয় ২৬ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর চাপ বাড়ে বাংলাদেশের। ৪৬ রানে পৌঁছাতে আরও ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সিরিজে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে ৪ রানে ফিরেন সৌম্য সরকার। ৩ রানে আটকে যান মুশফিকুর। আর উইকেটে সেট হয়ে ২১ বলে ২৩ রানে আউট হন নাইম।
৪৬ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও আফিফ। প্রথম ১৭ বল দেখেশুনে খেলেন তাঁরা। ১২তম ওভারে ১টি করে চার-ছক্কায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেন আফিফ।
১৪তম ওভারে একটি করে ছক্কা আসে মাহমুদুল্লাহ ও আফিফের ব্যাট থেকে। আর ১৫তম ওভারে একটি করে চার-ছক্কায় দলের স্কোর তিন অঙ্কে নিয়ে যান আফিফ। তবে ততক্ষণে বাংলাদেশের আস্কিং রেট বেড়ে ১১’র বেশি হয়ে যায়। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৫৬ রান প্রয়োজন পড়ে বাংলাদেশের। মারমুখী ব্যাটিং করে আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন আফিফ।
কিন্তু ১৬ থেকে ১৮, এই তিন ওভারের তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ২১ বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ২৩, নুরুল ৪ ও শামিম ২ রান করে আউট হন।
পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ জুটির ৪৩ বলে ৬৩ রান দলকে ম্যাচে রেখেছিল। কিন্তু ২ ওভারে প্রয়োজন ৪৬ রান নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৪ রান করে টাইগাররা। ৩৩ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ। নিউজিল্যান্ডের প্যাটেল-কুলেগেইন ২টি করে উইকেট নেন।