গ্ৰেপ্তার হওয়া অটোরিকশা চোর চক্রের তিন সদস্য ও জব্দ করা অটোরিকশা। ছবি: ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই

ময়মনসিংহে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা জিডির সূত্র ধরে চোর চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই ওই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি চুরি করা অটোরিকশা জব্দ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতারক চক্র বিভিন্ন কৌশলে অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাই করে আসছে। গত ২৪ জুন সকাল সাতটার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন বিষ্ণুপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়া (১৯) ভাড়া করা অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি বাড়ি ফেরেননি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরের দিন ২৫ জুন ঈশ্বরগঞ্জ থানায় জিডি করা হয়।

ঘটনাটিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা পিবিআই ওই জিডির বিষয়ে ছায়া তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে পিবিআইয়ের চৌকস দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি টিমের সহযোগীতায় গত ২৮ জুন দিবাগত রাতে নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা রায়হান মিয়াকে উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান স্বীকার করেন যে, তিনি নিজেই অটোরিকশাটি কৌশলে চুরি করে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মো. মতিউর রহমানের মাধ্যমে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। মতিউর ওই টাকা থেকে তিন হাজার টাকা নিজের জন্য রেখে বাকি টাকা রায়হানকে দিয়ে দেন। রায়হান হাজার টাকার মধ্যে ১২ হাজার টাকা দিয়ে একটি স্মার্টফোন কিনে বাকি টাকা নিয়ে নারায়নগঞ্জে চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি একটি গুদামে শ্রমিকের কাজ নেন।

রায়হান মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে পেশাদার অটোরিক্সা ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সদস্য মতিউর রহমানকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

পিবিআইয়ের দল ছায়া তদন্তকালে অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের পুরো সিন্ডিকেটকে সনাক্তের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় আসামী মতি মিয়াকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, চোরাই অটোরিকশাটি তিনি কিশোরগঞ্জের তারাইল থানাধীন কাজলা গ্ৰামের মো. রিপন মিয়ার (২৮) কাছে বিক্রি করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলা পিবিআইয়ের অভিযান পরিচালনাকারী টিম কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল এলাকা থেকে চোরাই অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়কারী চক্রের অপর সদস্য মো. রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আসামি রিপন মিয়াকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই চোরাই অটোরিকশাটি কয়েক হাত ঘুরে শিগগিরই পাশের নরসিংদী জেলার চোরাইমাল গ্রহীতা চক্রের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের দলটি চোরাই অটোরিকশাটি কিশোরগঞ্জ শহরের যশোদল এলাকা থেকে জব্দ করে।

আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাঁরা সংঘবদ্ধ অটোরিকশা চোর চক্রের সদস্য। তাঁরা অভ্যাসগতভাবে কৌশলে অটোরিকশা চুরি করে বিক্রি করে থাকে। তাঁরা চোরাই চক্র সম্পর্কে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। পিবিআই দ্রুত উক্ত বিষয়ে তদন্ত করে অটোরিকশা চোর বা ছিনতাইকারীসহ ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সব সদস্যদের আইনের আওতায় এনে পুরো চক্রের মূলোৎপাটন করবে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেক্ষিতে চুরি যাওয়া অটোরিকশার মালিক মোছাঃ রুনা আক্তার (৩০) গত বুধবার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় স্ব-উদ্যোগে তা অধিগ্রহণ করা হয় এবং মামালার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক মো. আবুল কাশেমের উপর অর্পণ করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে